প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:২৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৯, ২০২৫, ১০:০১ এ.এম
টাঙ্গাইল-৬ আসন ফিরে পেতে চায় বিএনপি, সরব জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

নাগরপুর, (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল-৬(নাগরপুর-দেলদুয়ার) সংসদীয় আসনটি নাগরপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দেলদুয়ার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি ২৪ জন। তারা সবাই মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ৩১দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। অনেকেই বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তাদেরকে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগ থেকে ব্যারিস্টার শওকত আলী নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি থেকে নূর মুহাম্মদ খান এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় পার্টি থেকে নূর মুহাম্মদ খান নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় পার্টি থেকে নূর মুহাম্মদ খান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি থেকে খন্দকার আবু তাহের নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি থেকে খন্দকার আবু তাহের নির্বাচিত হন। একই সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এ্যাড. গৌতম চক্রবর্তী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি থেকে গৌতম চক্রবর্তী দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে বীরমুক্তিযাদ্ধা খন্দকার আব্দুল বাতেন নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগ থেকে বীরমুক্তিযাদ্ধা খন্দকার আব্দুল বাতেন পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগ থেকে আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে আহসানুল ইসলাম টিটু দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। তিনি কয়েক বছর আগে পরলোকগমণ করেন। এবার তার স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তী মনোনয়ন প্রত্যাশি। এ আসন থেকে বিএনপির আরও ২৪ প্রার্থী মনোনয়ন চাইছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হচ্ছেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নূর মুহাম্মদ খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা মো. রবিউল আওয়াল লাভলু, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. আলী ইমাম তপন, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও সম্মানিত সদস্য মীর আবুল কালাম আজাদ ওরফে রতন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. শরিফ উদ্দিন আরজু, নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি দপ্তিয়র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর উত্তরের জাসাস- এর আহবায়ক ও নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য এ্যাড. মো. ইকবাল হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল ইসলাম রেজা, যুক্তরাজ্যের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামীম চৌধুরী (বাবু চৌধুরী), বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব (অব:) ডি. এম গোলাম ফারুক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবক মোহাম্মদ মাইনুল আলম খান কনক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রাজীব আহমেদ,সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফেরদৌস হোসেন, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি নেতা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল ডা: আনিসুর রহমান খান , মো. জুয়েল সরকার, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. জি এম শফি, সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক টাঙ্গাইল সরকারি সা'দত কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরিফুল হক আরিফ। এছাড়া নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ ছালাম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি।
সরেজমিনে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর অনেকেই বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সবাই বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোপূর্বে তাদের কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশির তালিকা জেলার মধ্যে এ আসনে বেশি হলেও তারা প্রত্যেকেই দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন বলে জানিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। গণসংযোগের দৌঁড়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি পরিশ্রমী নেতা মো. রবিউল আওয়াল লাভলু, ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক এবং নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ত্যাগী নেতা মীর আবুল কালাম আজাদ ওরফে রতন অন্যদের চেয়ে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। এ তিন নেতা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ সৃষ্টি করেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. আলী ইমাম তপন ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তীর স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তী সহ অন্য প্রার্থীরা সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিজস্ব সমাবেশ করছেন। পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডা, হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে ঘুরে ঘুরে ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিলি করেছেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় মনোনীত প্রার্থী ডা. এ. কে. এম. আবদুল হামিদ নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সর্বত্র জামায়াতে ইসলামীর গণজোয়ার বইছে দাবী করে তিনি বলেছেন, ৮০ শতাংশ মাঠ গোছানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় সব কেন্দ্র কমিটি প্রস্তুত। এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের মনোনীত প্রার্থী মো. আখিনুর মিয়া, খেলাফত মজলিস দলের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান শেখ, গণ অধিকার পরিষদ দলের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কবির হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পক্ষে ওয়াহেদুজ্জামান সুমন। অন্যদিকে, সমাজ সেবক খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির থেকে আব্দুল করিম নিরবে কার্যক্রম করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
টাঙ্গাইল-৬(নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের দুই উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৪৭ হাজার ৮১৫জন। এরমধ্যে নাগরপুর উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৬৩ হাজার ৫৭জন। পুরুষ এক লাখ ৩৩ হাজার ৫২ জন, নারী ভোটার এক লাখ ২৯ হাজার ৯৮১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ভোটার রয়েছে ৪ জন। দেলদুয়ার উপজেলায় মোট ভোটার এ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ জন। পুরুষ ৯৩ হাজার ৫৮৪ জন, নারী ভোটার ৯১ হাজার ১৭১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ভোটার রয়েছে ৩ জন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫