বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
Headline :
দৌলতপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কাটা হলো ৫টি মানিকগঞ্জে গাঁজা-শিশা ও হুক্কাসহ আটক ১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা মানিকগঞ্জে হয় মাদক কারবারী থাকবে , নয়তো আমরা থাকব’—মানিকগঞ্জে ডিবি ওসির হুঁশিয়ারি মানিকগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান সেই লগি-বৈঠার২৮ অক্টোবর উপলক্ষে টাঙ্গাইল জামায়াতের বিক্ষোভ-মিছিল দৌলতপুরের যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ২৭শো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পাস শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি- প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কারও ক্ষতি না হয় -প্রতিমন্ত্রী টুকু

টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি ভাঙনে বসত বাড়িঘর বিলীন

এইচএম মোকাদ্দেস,সিরাজগঞ্জ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক বসত ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের বসত বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্ত চরবাসী মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানির প্রবল স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, গাছপালা ও আবাদি জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি মাসেই দুই দফায় উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ২০০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় বসতঘর খুলে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, যমুনা নদীর পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। চরবাসীরা জানান, যমুনার ভাঙন তাদের নিত্যসঙ্গী হলেও প্রতিবছরের মতো এবারও সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। ফলে প্রতি বছরই বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
এবিষয়ে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বন্যার স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে সতর্কবার্তা পোস্ট করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরছলিমাবাদ, ওমারপুর ইউনিয়নের ভূতের মোড় এবং খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের শাকপাল এলাকায় নদীভাঙনে আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতি বছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণই পারে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষা করতে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, “উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রবল স্রোত এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।####

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page