মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:::::
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার প্রয়াত পিতা সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশিদ খান মুন্নুর স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থাপনা ভেঙে দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের চকহরিচরণ মৌজায় অবস্থিত লায়ন্স ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর ও স্মৃতিফলক অপসারণ করে সেখানে ছাপরা ঘর এবং পরবর্তীতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মো.শাকির হোসেন সুমন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, একটি ঐতিহাসিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের স্মৃতিচিহ্ন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ খান মুন্নু এলাকাবাসীর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে চকহরিচরণ এলাকায় লায়ন্স ক্লাবের উদ্বোধন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে তাঁর নামসংবলিত একটি স্মৃতিফলক ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ওইস্মৃতিফলক ভেঙে ফেলে সেখানে প্রথমে একটি অস্থায়ী ছাপরা ঘর নির্মাণ করেন। পরে ধীরে ধীরে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে স্থাপনাটি ‘দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাব’ নামে ব্যবহার শুরু করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, বিষয়টি শুধু জমি বা স্থাপনা দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন প্রয়াত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতি ও ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, স্মৃতিফলক স্থাপিত স্থানের ওপর জোরপূর্বক টয়লেট নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে মেনাজ উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম, শাহাজুদ্দিনের ছেলে সালমান খান, আমিনুল, আব্দুর রশিদ মেলারের ছেলে নুরল ইসলাম ওরফে দেলছো, জুমাত আলীর ছেলে মো. আব্দুল রফিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হারুন অর রশিদ খান মুন্নুর নামে স্থাপিত ওই স্মৃতিফলক দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর কাছে একটি পরিচিত নিদর্শন ছিল। সেটি অপসারণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
বাদী মো. শাকির হোসেন সুমন বলেন, “একজন প্রয়াত জাতীয় নেতার স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু সম্পত্তি বা স্থাপনা বিনষ্টের বিষয় নয়, বরং একটি ইতিহাস ও স্মৃতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবহ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা উচিত বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
দৌলতপুর থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়বস্তু যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং যদি স্মৃতিফলক ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নিদর্শনটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।##