বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline :
দৌলতপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কাটা হলো ৫টি মানিকগঞ্জে গাঁজা-শিশা ও হুক্কাসহ আটক ১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা মানিকগঞ্জে হয় মাদক কারবারী থাকবে , নয়তো আমরা থাকব’—মানিকগঞ্জে ডিবি ওসির হুঁশিয়ারি মানিকগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান সেই লগি-বৈঠার২৮ অক্টোবর উপলক্ষে টাঙ্গাইল জামায়াতের বিক্ষোভ-মিছিল দৌলতপুরের যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ২৭শো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পাস শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি- প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কারও ক্ষতি না হয় -প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইলে অবৈধ করাতকলের ছড়াছড়ি, উজার করা হচ্ছে সবুজ বনায়নের শাল গজারি

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল ঃ

সরকারি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে টাঙ্গাইলে গড়ে তোলা হয়েছে শতশত অবৈধ করাতকল। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অবৈধ করাতকলের সংখ্যা। অভিযান ও জেল-জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না এসব অবৈধ করাতকল। ফলে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলসহ সংরক্ষিত বনের শাল-গজারি গাছ উজার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে অবৈধ করাতকল বন্ধে তারা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্রে জানা যায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় অবৈধ লাইসেন্স বিহীন করাতকলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭০ টি। আর বৈধ লাইসেন্স রয়েছে মোট এক শত ৬৩ টি। তবে, জেলা বন বিভাগের হিসাবের বাহিরে বনের ভেতরে আরও শতশত অবৈধ করাতকল গড়ে তুলেছেন অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা। স’মিল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন করাতকলে লাইসেন্স দেওয়া হয় না। কোনো মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। আর লাইসেন্স নেওয়ার পর প্রতি বছর তা নবায়ন করতে হবে। কিন্তু তা মানছেন না বেশিরভাগ করাত কল মালিক। আইনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরেই গড়ে তুলছে শতশত অবৈধ স’মিল। সরেজমিনে জেলার সখীপুর উপজেলা পৌরসভা, বড়চওনা, মৌলভীপুর, বহেড়াতল, নলুয়া, ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ও সাগরদিঘীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত বনের ভেতরে অবৈধ শতশত করাতকল। এসব করাতকলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতের সারি সারি বনের গাছ। সেগুলো প্রকাশেই শ্রমিক ও মালিকরা চিরাই করে স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে ওই অসাধু চক্র। বৈধ করাতকল মালিকদের অভিযোগ বন রক্ষকদের ম্যানেজ করেই তারা অবৈধভাবে এসব করাতকলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মাঝে মধ্যে অভিযান করে দু’একটা বন্ধ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় চালু করে অবৈধ করাতকল মালিকরা।
অবৈধ করাতকল মালিকরা বলছেন, তারা একাধিকবার লাইসেন্সের জন্য আবেদন দিয়েও বন বিভাগসহ ও সংশ্লিষ্টদের সাড়া পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন তারা।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, অবৈধ করাতকল বন্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যারা আবেদন করেছেন তা যাচাই-বাছাই করা হবে।
সংরক্ষিত বনের ভেতরে অবৈধ করাতকল বন্ধ করা না গেলে এই পাহাড়ি অঞ্চলের শাল-গজারিসহ অন্যান্য বৃক্ষ ধ্বংস হয়ে যাবে। উজার হবে সবুজ বনায়ন, হারাবে প্রকৃতির ভারসাম্য। তাই বন বিভাগ ও প্রশানসনসহ সংশ্লিষ্টদের এসব অবৈধ করাতকল বন্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপ ও ভূমিকা নেয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

 

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page