নিজস্ব প্রতিবেদক :::
সোসাইটি অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন, বাংলাদেশ-এর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। (SNMB) এ দেশের পরমাণু চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক ও অলাভজনক বৈজ্ঞানিক সংগঠন, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ডায়াগনোসিস, থেরাপি ও এ-সংক্রান্ত গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গত ২৪শে এপ্রিল, শুক্রবার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, ঢাকায় সংগঠনটির ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে পরমাণু চিকিৎসার সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় অর্ধশত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অংশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটি অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন, বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. ফারিয়া নাসরিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে ২৪ ঘণ্টা ইমারজেন্সি আল্ট্রাসাউন্ড খোলা রাখার কথা বলেন। এছাড়াও চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল বারী ও অধ্যাপক ডা. জিনাত জেবিন উক্ত কনফারেন্সে Hyperthyroidism ও Thyroid Cancer Protocol 2026 উপস্থাপন করেন।
স্বাগত বক্তব্যে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ হোসেন সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম. এ. করিম অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সেমিনার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সোসাইটির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নবীন বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সম্মেলনের পরবর্তী অংশে নবীন বিজ্ঞানীদের একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৬–২৮ মেয়াদের কর্মপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটিতে অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন (সাবেক চেয়ারম্যান, বাপশক) সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল বারী (পরিচালক, নিনমাস, বিএমইউ), সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক ডা. জিনাত জেবিন (পরিচালক, ইনমাস, সোহরাওয়ার্দী) এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক ডা. আবু বকর সিদ্দিক (বিভাগীয় প্রধান, পিইটি-সিটি বিভাগ, বিএমইউ) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং পূর্ববর্তী সভাপতি ও কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবাইকে নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।