সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline :
সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘দূর্বার-১৮’ এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী মধুপুরে কাঁচা আনারসের বাজার সম্প্রসারণে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দিন দিন কিশোর গ্যাং বেড়ে চলছে ঘিওরে আইনশৃংখলা- কমিটির সভায় এমপি এস এ জিন্নাহ কবির সিরাজগঞ্জে এসএসসি ৯৬ ব্যাচের বন্ধু উৎসব কেক কেটে টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম এর ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল সদর, রানার্সআপ গোপালপুর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন -প্রতিমন্ত্রী টুকু ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনশক্তিতে গড়ে তুলতে হবে — বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম মানিকগঞ্জে ২৫ পিস ইয়াবাসহ ফরিদ মেম্বার গ্রেফতার মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মধুপুরে কাঁচা আনারসের বাজার সম্প্রসারণে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে কাঁচা আনারসকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। একসময় এ অঞ্চলে শুধুমাত্র পাকা আনারস বিক্রি হলেও বর্তমানে কাঁচা আনারসও বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথায় এবং কীভাবে এই কাঁচা আনারস বিক্রি হয়, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা কৌতূহল।

কাঁচা আনারস বিক্রির বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে মধুপুরের সবচেয়ে বড় আনারস বাজার মোটেরবাজার, গারোবাজার ও জলছত্র বাজার ঘুরেও এর কোনো সরাসরি হদিস পাওয়া যায়নি। পরে মোটের বাজারের কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাসুদ পারভেজের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “কাঁচা আনারস সাধারণত বাজারে তোলা হয় না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে ট্রাকে করে আনারস সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করেন।”

সরেজমিনে কয়েকটি আনারস বাগান ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা কাঁচা আনারস সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে পাকা আনারসের মতো যত্ন নিয়ে নয়, অনেকটা দ্রুতগতিতেই সেগুলো তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে শ্রমিক বাবলু বলেন, “পাকা আনারস সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, তাই সাবধানে তুলতে হয়। কিন্তু কাঁচা আনারস নষ্ট হওয়ার ভয় কম, তাই দ্রুত তোলা যায়।”

ট্রাক শ্রমিক আব্দুল খালেকও একই তথ্য দেন। তিনি বলেন, “কাঁচা আনারস পরিবহনে তেমন সমস্যা হয় না। পাকা আনারসের মতো খড়, লতাপাতা বা অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে পরিবহন ব্যয়ও কম হয়।”

কাঁচা আনারসের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, “আমরা মূলত বাগান থেকে আনারস সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করি। প্রতি আনারসে দুই টাকা করে লাভ পাই। পরে সেগুলো কোথায় যায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করা হয়।”

তিনি জানান, সাধারণত এক কেজি বা তার বেশি ওজনের আনারস সংগ্রহ করা হয় এবং প্রতিটি আনারস প্রায় ৩০ টাকা দরে কেনা হয়।

স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঁচা আনারস বর্তমানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, আচার, জুস, পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কাঁচা আনারসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন এই বাজারের কারণে কৃষকরা আনারস সম্পূর্ণ পরিপক্ব হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় দ্রুত উঠে আসার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, “আগে শুধু পাকা আনারস বিক্রির ওপর নির্ভর করতে হতো। বাজারে দাম কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কা থাকত। এখন কাঁচা আনারসেরও বাজার তৈরি হওয়ায় আমরা বিকল্প ক্রেতা পাচ্ছি। এতে খরচ ওঠানো সহজ হচ্ছে এবং লাভও বেশি হচ্ছে।”

বেরিবাইদ ইউনিয়নের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম রকিব বলেন, কার্যকর বাজারব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কাঁচা আনারস মধুপুরের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

একসময় শুধুমাত্র পাকা আনারসের জন্য পরিচিত মধুপুর এখন কাঁচা আনারসের নতুন বাজার নিয়েও আলোচনায়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ বাজারের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে কৃষকের আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মধুপুরের আনারস শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page