মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠী যদি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, তাহলে মানিকগঞ্জে তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে থাকা একজন গ্রহণযোগ্য ও সৎ রাজনৈতিক নেতা আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিভিন্ন স্থানে পটকা ও ককটেল বিস্ফোরণ এবং ব্যানার টাঙিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বঙ্গোপসাগরের গ্যাস প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্রসীমা থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বাংলাদেশের গ্যাসসম্পদও যাতে অন্যের নিয়ন্ত্রণে না যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি আগের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেতৃত্ব নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সারের মজুত নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে পরিমাণ সার মজুত ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি সার রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কোথাও সারের সংকট নেই—এমন বক্তব্যও দেন মন্ত্রী।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর , মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত,জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়সার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ,সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খান,সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল রহমান খান,জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব খান অয়ন সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সভা শেষে দেশকে অস্থিতিশীল করার কথিত পরিকল্পনার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।