শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

বিএনপির নেতা-কর্মীদের মোটরসাকেল রাখতে নিষেধ করায় পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ০২ অক্টোবর-২০২৫,বৃহস্পতিবার।

মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার ভেতরে মোটরসাইলে রাখতে নিষেধ করায় এক নারীপুলিশ সদস্যসহ দুইজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র (এমপি প্রার্থী) খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও ঘিওর উপজেলা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর কাউসারসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী থানা পুলিশের সদস্যদের লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আজকে সন্ধ্যার দিকে থানার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকে সন্ধায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের  মনোনয়ন প্রত্যাশী  খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল ও ঘিওর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর কাউসারের নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেলের বহর থানার ভিতরে ঢুকে এবং থানার ভিতরে মোটরসাইকেল রাখতে চায়। এসময় থানায় দায়িত্বে থাকা নারী পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) থানার ভিতরে মোটরসাইকেল রাখতে নিধেষ করলে ঘিওর সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাক মীর কাউসারসহ বাবলুর অনুসারি বিএনপির নেতা-কর্মীরা ওই নারী পুলিশ কনস্টেবলকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এরপর ওই নারী পুলিশ কনস্টেবল থানার ভিতরে গিয়ে টিউটি অফিসার এ.এস.আই রফিককে বিষয়টি জানান এবং ডিউটি অফিসার রফিক তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন এবং থানার ভিতরে মোটরসাইকেল না রাখতে অনুরোধ করেন।

এর পর এমপি  মনোনয়ন প্রত্যামী   খোন্দকার আকবর হোসেন বাবুল ও ঘিওর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর কাউসার সঙ্গে থানার ডিউটি অফিসার রফিককের বাকবিতণ্ডা বেধে যায়। এক পর্যায় বাবলুর উপস্থিতিতেই তার অনুসারীরা থানা পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে থানার আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিএনপির নেতা ও এমপি প্রার্থী  খোন্দকার   আকবর হোসেন বাবুল তার অনুসারিদের নিয়ে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী  খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুর মুঠোফোনে বলেন,‘আমি থানার ভেতরে ছিলাম না, আমার গাড়ি বাহিরে ছিল। পুলিশের কাছে আমার নেতা-কর্মীরা হেনস্থ হয়েছে বলে তিনি উল্টো অভিযোগ করেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হয়তো পুলিশের এ এস আই রফিরে কথা কাটাকাটি হতে পারে, লাঞ্ছিত হওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে আজকে পৌনে ৯ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই মুহুর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছিনা। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষে সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page