সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে ইন্টারচেন্জ এর কাজ চলমান রয়েছে ইন্টারচেন্জ এর কাজ করার জন্য পুরাতন ঐতিহ্যবাহী গোল চত্বর ভাঙ্গার পর তার চারপাশে গড়ে উঠেছে তিনটি নতুন বাস স্ট্যান্ড। গোল চত্বরের পূর্বপাশে ঢাকা- পাবনা মহাসড়কে পাবনা বাসস্ট্যান্ড ও পশ্চিম পাশে ঢাকা- রাজশাহীগামী রাজশাহী-নাটোর বাসস্ট্যান্ড ও গোল চত্ত্বরটির উত্তর পাশে ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কে ঢাকা- বগুড়া বাসস্ট্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বাস্ত্যতম বাস স্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা -বগুড়া বাসস্ট্যান্ড।
২২ জেলার মানুষের ঢাকাগামী দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর বাস স্টপিজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
পাবনা – নাটোর,রাজশাহী, বগুড়াসহ ২২ জেলার পরিবহনগুলো গোলচত্ত্বর ঘুরে ঢাকা বগুড়া বাসস্ট্যান্ডেই যাত্রী উঠানামা করা হয়।
প্রতিদিন প্রায় দশ থেকে পনের হাজার মানুষের সমাগম ঘটে ও উঠানামা করে এই স্টপিজেই।
আর এই নতুন ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরেই সম্প্রতি গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র।
পুরাতন গোল চত্ত্বরটি ভাঙার পর রাধানগর, ধোপাকান্দি, চকপাড়া, উত্তরপাড়াসহ স্থানীয় কিছু যুবকদের চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গুটি কয়েক লিড দাতা চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ধারনা মোতাবেক চক্রটির সদস্য রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জনের মত।
জানাযায়, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ও ঢাকা- চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী তুললেই চাঁদাবাজ সদস্যদের দিতে হয় ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা। দুই থেকে তিনজন যাত্রী তুললে দিতে হয় ৫০, ১০০, ২০০ টাকা।
চাঁদার টাকা তোলার জন্য রয়েছে নিজস্ব বাহিনী।
যাত্রী উঠানামার সময় চেইনমাস্টার পরিচয়ে এগিয়ে আসে একাধিক যুবক। টাকা দিতে অস্বীকার করলে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না।
এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী সাধারণ। এতে বর্ধিত ভাড়ায় পৌঁছাতে হচ্ছে গন্তব্য।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী বাস মালিক সমিতির আন্ডারে সিরিয়াল মেইনটেইন ও গাড়ি চেক দেওয়ার জন্য হাতে গোনা কয়েকজন চেইন মাস্টার নিয়োগ দেওয়া থাকলেও
বাসস্ট্যান্ডের অধিকাংশ লোকই চেইনমাস্টার ও পরিবহন শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে তুলছেন অবৈধ চাঁদা।
চাঁদার টাকা ভাগবাটোয়ারা ও নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর হাতে।
এর মধ্যে রাধানগর এলাকার আলাউদ্দিন মন্ডল (৪৫) ,হাটিকুমরুল ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুল লতিফ (৩৫), চরিয়া শিকার উত্তর পাড়া এলাকার কোরমান আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৪৫), মসলেম উদ্দিন (৪০), ও মুজাউদ্দিনের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪০), চকপাড়া এলাকার আব্দুল মমিন (৩৫) ও সাকাওয়াত সহ বেশ কয়েকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী ও চেকার, পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও সিরিয়াল মেইনটেইনকারীদের অনেকেই জানান, সিরাজগঞ্জ রোড গোল চত্ত্বর ভাঙার পর নতুন ভাবে রাধানগর এলাকায় নতুন বাসস্ট্যান্ড ও কাউন্টার গড়ে উঠেছে। এই সুযোগে রাধানগর এলাকার আলাউদ্দিন ও হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সেচ্চাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে তারা একটি সমিতি করে। পরবর্তীতে আলাউদ্দিন, লতিফ, উত্তরপাড়ার লতিফ, জহুরুল, মোমিন, সাকাওয়াত মিলে বাকি সদস্যদের দিয়ে বাস থেকে গাড়ি প্রতি চাঁদা তুলছেন। এখান থেকে গাড়িতে যাত্রী তুললেই তাদের লোক এসে দাঁড়িয়ে থাকে পুরো গাড়ি ভরলে তারা গাড়ি প্রতি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এবং দুই একটা যাত্রি তুললেও তাদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হয়। পরে সমস্ত টাকা এক জায়গায় জমায়েত হয়ে দিন শেষে লেভেল বুঝে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এই টাকার একটি বড় অংশ স্থানীয় নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্যও রাখা হয়।
এদের জন্য বাস মালিক সমিতির নির্ধারিত লোকজনও গাড়ির কাছে যেতে পারে না। গেলেই তাদের এলাকার উঠতি বয়সি কিছু বখাটে ছেলেদের দিয়ে হেনস্থা করা হয়।
এমনকি কাউন্টার মাস্টার ও চেকাররাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায় না। কিছু বললেই তাদেরকে বাসস্ট্যান্ড থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি প্রতি কাউন্টার থেকেও তারা টাকা নিয়ে থাকে। টাকা না দিলে কাউকেই এখান থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করেন। তারা আরও জানান,আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পরেছি। নাম প্রকাশ করলেও সমস্যা পরদিন আর আমরা বাসস্ট্যান্ডে যেতে পারব না। তাই আমরা চুপ করে থাকি।
যে যেমন পারছে গাড়ি থেকে টাকা রেখে দিচ্ছে, আর টাকা না দিলে রোড থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না।
এসব বন্ধ হওয়া উচিত, এভাবে চলতে থাকলে, ভাড়ার অর্ধেক টাকা এদেরকেই দিয়ে যেতে হবে।
এব্যাপারে আব্দুল লতিফ জানান, আমরা চাঁদাবাজি করি না, সিরিয়াল মেইনটেইন করি, মহাসড়কে যানজট বাধে এখানকার ছেলেপেলেরা যানজটের সময় পুলিশকে সহযোগীতা করার জন্য যায়। আরেকজন লিডদাতা
আলাউদ্দিন এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইসমাইল হোসেন জানান,চাঁদাবাজির বিষয়টি জানতাম না তবে খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর জানান, নির্ধারিত কোন ব্যক্তি হেনস্থার শিকার হলে, অথবা কেউ অভিযোগ দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন,যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের খোজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
হাইওয়ে বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে । আমি চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
####