বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শালিসে ডেকে নিয়ে মারপিট মহিলাসহ আহত- ২ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলভিয়া স্নিগ্ধা মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানিকগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড নেত্রকোনা পৌরসভায় প্রকল্পে সাশ্রয়ের নজির ১ কোটি ৩০ লাখ একজন দেশপ্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না: পর্যটনমন্ত্রী দৌলতপুরে ধর্ষণের অভিযোগের ন্যায়বিচার না পেয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ পীরের ছেলের বিরুদ্ধে! কাজিপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি নেতাকে বহিষ্কারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সিরাজগঞ্জে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ সিরাজগঞ্জে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ- মামলা দায়ের সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সে আ’লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ও বিজয় নিয়ে যা বললেন সাইদুর রহমান বাচ্চু

যথাযোগ্য মর্যাদায় মওলানা ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম ওফাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার(১৭ নভেম্বর) সকালে তাঁর মাজারে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
মওলানা ভাসানীর মাজারে সকাল সাড়ে ৭টায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অফিস প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থ দের নিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ভাসানীর পরেবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘যুগ যুগ জিও তুমি, মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে মাজার প্রাঙ্গন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
এদিন পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এ সময় কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নুরুল হক নুর ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমীর আহসান হাবিব মাসুদের নেতৃত্বে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকেও ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পন শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আজ খুব ভালো লাগছে। মজলুম জননেতার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরেছি। ইতোপূর্বে এই ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেও আমি রক্তাক্ত হয়েছি। ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আমাদের ১২ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই সহস্রাধিক কর্মী। আন্তর্জাতিক আদালতে শেখ হাসিনা সহ অন্য ফ্যাসিস্টদের সর্বোচ্চ সাজা হবে এটাই প্রত্যাশা করি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে যারা খুন করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বিচারে মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছে, আদালতে তার বিচার চলছে। আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনা সহ তিন জনের ফাঁসির রায় হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
মওলানা ভাসানীর মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখা আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান-২৪ পরবর্তীতে বর্তমানেও বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি সাইফুর রহমান রেজা ও সঞ্চালনা করেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আওয়াল মাহমুদ। সভায় বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বহ্নিশিখা জামালী, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও খোদা-ই-খেদমতগার এর আয়োজনে মওলানা ভাসানীর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, ওরশ, স্মরণ সভা, গণভোজসহ সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’র আয়োজন করা হয়। সাতদিন আগে থেকে মওলানা ভাসানীর ভক্ত-অনুসারী ও মুরিদানরা সন্তোষে এসে সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page