বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
Headline :
মানিকগঞ্জে গাঁজা-শিশা ও হুক্কাসহ আটক ১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা মানিকগঞ্জে হয় মাদক কারবারী থাকবে , নয়তো আমরা থাকব’—মানিকগঞ্জে ডিবি ওসির হুঁশিয়ারি মানিকগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান সেই লগি-বৈঠার২৮ অক্টোবর উপলক্ষে টাঙ্গাইল জামায়াতের বিক্ষোভ-মিছিল দৌলতপুরের যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ২৭শো কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প পাস শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি পাবে শিক্ষার্থীরা, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি- প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক চিকিৎসকদের অবহেলায় যেন কারও ক্ষতি না হয় -প্রতিমন্ত্রী টুকু দৌলতপুরের বাঘুটিয়ার চরাঞ্চলে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী লাঠি বাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত

আজ ২২ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওরের তেরশ্রীর গণহত্যা দিবস

আল মামুন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :

আজ ২২ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওরের তেরশ্রী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তেরশ্রীর তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী, তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানসহ ৪৩ জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় পুরো গ্রামের ঘরবাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয় পাক সেনারা। সেই ভয়াল দিনের কথা মনে পড়লে আজও আঁতকে ওঠেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, ঘিওরের পয়লা ইউনিয়নের তেরশ্রী গ্রামের মানুষগুলো ছিল সাংস্কৃতিক মনা। বাম রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু ছিল তেরশ্রী গ্রাম। মুক্তিযোদ্ধাদের আনাগোনা ছিল জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর দোসররা টার্গেট করে এই গ্রামটিকে। গোপনে শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবিদের তালিকা করে দালালেরা। নীল নকশা করে এই গ্রামটিকে ধ্বংস করার।

১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর ভোর কেটে সূর্য ওঠার মুহূর্তেই পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও দেশীয় রাজাকার ঘিরে ফেলে তেরশ্রী গ্রামের সেন পাড়ার কালি মন্দিরটি। ২১ নভেম্বর গভীর রাতে এদেশীয় দালালদের নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গোপনে একটি মিটিং করে তেরশ্রী গ্রামে সেনপাড়া কালিবাড়ী মাঠ প্রাঙ্গনে। তারা পরিকল্পনা করে ২২ নভেম্বর হত্যাযঞ্জের। ঘিওর থেকে সিধুঁনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা এদেশীয় ঘাতকদের সহযোগিতায় ভারি অস্ত্র নিয়ে তেরশ্রী গ্রামে পৌঁছে। কনকনে শীতের সকালে অনেকেই তখন ঘুম থেকে উঠেনি। ঠিক সেই মূহুর্তে পাকিস্তানি সেনারা অতর্কিত হামলা চালায় গ্রামটিতে। ঘরে ঘরে দেয় আগুন। ঘর থেকে বের হবার সুযোগ দেয়নি গ্রামবাসিকে। বৃষ্টিরমত গুলি ছুড়তে থাকে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর। তাদের চিৎকারে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। অপারেশনের সময় এদেশীয় দালালরা মুখোশ পরে নেয় যাতে তাদের কেউ চিনতে না পারে। ৬ ঘন্টার অপারেশনে ঘাতকরা একের পর এক বেওনেট চার্জ করে এবং গুলি করে ৪৩ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে। বেলা ১২টার মধ্যে হত্যাযজ্ঞ শেষ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা চলে যায় ঘিওর সদরে। এই সময় পুরো এলাকা রক্তে ভেসে য়ায। লাশগুলো কোন রকম দাফন করা হয়। স্বাধীনতার ৫৪ টি বছর অতিবাহিত হবার পরেও সেন পাড়া গ্রামের মানুষগুলো এই হত্যাকান্ডের বিচার পায়নি।

২০১১ সালের ২২ নভেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর অধীনে শহীদদের স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার্থে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন এম,সি,এ ও কমান্ডার ও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মোসলেম উদ্দিন খান হাবু মিয়া, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক। ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর শুভ উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। সেই সাথে উন্মোচিত হয়েছে তেরশ্রীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন , ভাষা আন্দোলন,মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলনে তেরশ্রী গ্রামের কৃতিত্ব রয়েছে। তেরশ্রীতে ৪৩ জন শহীদদের স্মরনে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করা হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন স্মৃতিস্তম্ভ দেখার জন্য আসে। প্রতিদিন যাত্রা পথে বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলারসহ গ্রামীন জনপদের মানুষ ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রীতে এমন একটি নান্দনিক স্থাপনা দেখে মুগ্ধ হচ্ছে।

পয়লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন মানিক বলেন, ২২ নভেম্বর ভোর রাতে পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে এদেশীয় রাজাকার আলবদররা মিলে তেরশ্রী গ্রামসহ আশপাশের চারটি গ্রাম জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করা হয় নিরীহ ৪৩ জন মানুষকে। তেরশ্রী কালি নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পাশে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাশিতা তুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ তানভীর ইসলাম , ঘিওর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহিনুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জান মানিক, সাধারন৷ সম্পাদক কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টার , পয়লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page