নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মনোনীত গরু গাড়ীর প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি (বিজেপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা তারেক শামস খান হিমু ।
বিগত ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল বাতেন হরিণ মার্কার এর পক্ষে কাজ করার আপরাধে তারেক শামস খান হিমু কে নাগরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছিল । আবার পরবর্তীতে বিগত ২০২৪ সালের টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর- দেলদুয়ার) আসনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহসানুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে ঈগল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায়
আওয়ামী লীগ ও সরকার বিরোধী বক্তব্য ও সমালোচনা করায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ হতে অব্যহতি দেয়া হয় বলে দলীয় সূত্র জানান।
সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সহোদর মুজিবুল হক পান্নার নেতৃত্বে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী নাগরপুর ও দেলদুয়ারে হিমুর এবং তার কর্মীদের উপর ব্যাপক হুমকি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ঈগল প্রতীকের প্রচারের জন্য ব্যবহৃত অন্ততপক্ষে দশ সেট মাইক ও ব্যাটারি পান্নার বেজি বাহিনী ছিনতাই করে নিয়ে যায়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। জনাব তারেক শামস খান হিমুর বাবা মরহুম হুমায়ুন হোসেন খান মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন বিধায় রাজাকারের সন্তান বলে ট্যাগ লাগাতেন।
এদিকে তারেক শামস খান হিমু সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আর সম্পৃক্ত নই তাই এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় পার্টি ( বিজেপি) হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।
বিগত ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল বাতেন হরিণ মার্কার এর পক্ষে কাজ করার আপরাধে নাগরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিগত ২০২৪ সালের টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর- দেলদুয়ার) আসনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঈগল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু প্রশাসনের সহযোগিতায় দিনের ভোট রাতে করে জোরপূর্বক আমাকে পরাজিত করে।
ওই সময়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার বিরোধী বক্তব্য ও সমালোচনা করায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ হতে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে আমি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিজেপি আন্দালিব রহমান পার্থ এর দলে যোগদান করে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছি।
আমি ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম রূপকার কবি দার্শনিক ফরহাদ মজহার এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে উক্ত আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করি। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুতামূলক আমাকে নাগরপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের করা মামলায় সম্পৃক্ত করে।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবা মরহুম হুমায়ুন হোসেন খান তৎকালীন মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় আমার বাবার ও আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পরিচিতি গ্রহণযোগ্য থাকায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আবারো আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য আওয়ামী লীগের কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। তাই আমাকে জড়িয়ে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা অনলাইনে মিথ্যা ও বানোয়াট মনগড়া প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন,আমি নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইল-৬ নাগরপুর-দেলদুয়ার কৃষক-শ্রমিক গ্রাম-গঞ্জে খেটে খাওয়া দিনমুজুর,হিন্দু,বৌদ্ধ-খৃস্টান সকল ধর্মের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো । আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গরুর গাড়ি মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য প্রতি আহ্বান জানান । #######