শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
Headline :
মানিকগঞ্জে ২৫ পিস ইয়াবাসহ ফরিদ মেম্বার গ্রেফতার মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলে ডিসি লেককে উন্নত মানের মিনি পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা -প্রতিমন্ত্রী টুকু মানিকগঞ্জে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার দৌলতপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষ উভয় পক্ষের ৫ জন আহত।থানায় দুই পক্ষের অভিযোগ টাঙ্গাইলে দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া বাজারে অবৈধ চায়না জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান হবিগঞ্জে এনসিপি’র গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ শিবালয় উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রভাবশালী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন হাজী মিজানুর রহমান লিটন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শালিসে ডেকে নিয়ে মারপিট মহিলাসহ আহত- ২ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলভিয়া স্নিগ্ধা মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

নাগরপুরে উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, নড়বড়ে সাঁকো পেরিয়েই চলছে ৯ গ্রামের মানুষের জীবন

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন অন্তত ৯ গ্রামের মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই বর্তমানে তাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এ অঞ্চল দিয়ে ধলেশ্বরী নদীর প্রবাহ ছিল। পরে নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে অন্যদিকে সরে গেলে এখানে সরু শাখা খালের সৃষ্টি হয়। নদীর পাশে জেগে ওঠা চরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মানুষের বসতি ও আবাদি জমি। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রায় পাঁচ বছর আগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমানে নড়বড়ে সেই সাঁকো দিয়েই পংবাইজোড়া, দেইল্লা, লাড়ুগ্রাম, স্বল্প লাড়ুগ্রাম, চৌহালীপাড়া, পংবড়টিয়া, ঘুণি ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি বৃদ্ধি পেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হয়। আর শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে মানুষ খালের নিচ দিয়ে হেঁটে চলাচল করেন। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় নৌকায় পারাপার করতে হয়। এতে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও জরুরি চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বিল্লাল মিয়া বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করছি। উন্নয়নের কথা শুনলেও আমাদের এলাকায় তার কোনো বাস্তব চিত্র নেই।”

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও সমস্যায় পড়তে হয়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা জানান, স্থানীয়দের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও এখনো স্থায়ী কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। তবে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মোঃ আতোয়ার রহমান খান বলেন,“পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কের সেতু সমস্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কার্যকর উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেও সেতু নির্মাণ কাজ আলোর মুখ দেখছে না। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, “ভারী বৃষ্টি হলেই খালে পানি বেড়ে যায়। তখন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতেও ভোগান্তি হয়।”মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছি। এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page