শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
Headline :
মানিকগঞ্জে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার দৌলতপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষ উভয় পক্ষের ৫ জন আহত।থানায় দুই পক্ষের অভিযোগ টাঙ্গাইলে দেলদুয়ারের নাটিয়াপাড়া বাজারে অবৈধ চায়না জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান হবিগঞ্জে এনসিপি’র গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ শিবালয় উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রভাবশালী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন হাজী মিজানুর রহমান লিটন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শালিসে ডেকে নিয়ে মারপিট মহিলাসহ আহত- ২ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলভিয়া স্নিগ্ধা মহোদয়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মানিকগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড নেত্রকোনা পৌরসভায় প্রকল্পে সাশ্রয়ের নজির ১ কোটি ৩০ লাখ একজন দেশপ্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না: পর্যটনমন্ত্রী

ঢাকামুখি স্রোত কমেছে রোগীদের, টাঙ্গাইলের দুটি হাসপাতালে মিলছে উন্নত চিকিৎসা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
একসময় টাঙ্গাইলের মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহমুখী হতেন। অ্যাম্বুলেন্সে ৩-৪ ঘণ্টার যাত্রা, পথে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। সাথে যোগ হতো অতিরিক্ত অর্থ খরচ।

কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র পাল্টেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ৭৫০ সজ্জার সমন্বিত মেডিকেল হাব। এটিকে এখন জেলার চিকিৎসা খাতের ‘নতুন দিগন্ত’ বলছেন সবাই। সঙ্গত কারণেই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ময়মনসিংহ মুখি রোগীর স্রোত কমেছে অনেকটাই।

শহরের উত্তর দিকে পাশাপাশি অবস্থিত এই দুটি হাসপাতাল। জেনারেল হাসপাতাল ৫০ শয্যার সেবা দিয়ে আসছে সেই ১৯৭৪ সাল থেকে। পরে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি কলেজটির প্রথম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়ার মাধ্যমে এর একাডেমিক যাত্রা শুরু হয়। এখন চিকিৎসা ও শিক্ষার বড় কেন্দ্র এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রোগী রেফার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কনসালটেশন ও যন্ত্রপাতির শেয়ারিং হওয়ায় সেবার মান বেড়েছে বহুগুণ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় এই হাবই ছিল জেলার ভরসা। আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ, অক্সিজেন সাপ্লাই সব একসাথে ম্যানেজ করে প্রাণ বাঁচিয়েছে জেলার হাজারো মানুষের।

আগে সিটি স্ক্যান, হার্টের ইকোর জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হতো। এখন টাঙ্গাইলেই মিলছে এই সেবা। গত ৩ বছরে সরকারি বরাদ্দে যুক্ত হয়েছে, ১টি সিটি স্ক্যান, ল্যাপারোস্কপি সেট ও আধুনিক ল্যাব।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান ,“আমরা এখন ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, বড় অপারেশন, ট্রমা কেস সবই এখানে ম্যানেজ করছি। মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা ২৪ ঘণ্টা থাকায় জরুরি সেবা আগের চেয়ে ৫০% দ্রুত হয়েছে।”
তিনি আরো জানান,খুব দ্রুতই নাক,কান গলা (ইএনটি) বিভাগ, চক্ষু বিভাগ ও আই সি ইউ ইউনিটের চালুর প্রচেষ্টা চলছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহযোগিতায় খুব দ্রুতই এই বিভাগ গুলো চালু করা হবে। আরেকটি চ্যালেঞ্জ জনবল। ৫০০ শয্যার বিপরীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা কম। পদ ফাঁকা থাকায় চাপ বাড়ছে কর্মরতদের উপর।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাইরিয়ার ও হামের আলাদা ইউনিট রয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পরও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে এখন প্রায় ৪০০ রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেটা জেনারেল হাসপাতালে সেবার মান ভালোর অন্যতম নির্দেশক। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার মহোদয় জেনারেল হাসপাতালের জনবলের অভাব পুরণে সহায়তা করবেন।

সখীপুরের রেহেনা বেগম সিজারের জন্য এসেছেন। তিনি বলেন, “আগে ঢাকার কথা শুনলেই ভয় লাগত। এখন এখানেই ভালো ডাক্তার, ভালো অপারেশন। খরচ অর্ধেক।”সরকারকে ধন্যবাদ।

দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়ার গ্রামের আহমেদ আলী(৭৪)র স্ট্রোক হয়েছিল আট দিন আগে। আট দিনের চিকিৎসার শেষে পর আজকে তাকে রিলিজ করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, তিনি জানান, টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নত হয়েছে, আগে স্ট্রোকের চিকিৎসা টাঙ্গাইলে ছিলনা, ঢাকায় রেফার্ড করা হতো, এখন টাঙ্গাইলে স্ট্রোকের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দেলদা গ্রামের মিনা চৌধুরী (৬০) পেটে ব্যথা ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।তিন দিনের চিকিৎসা শেষে আজকেই তিনি বাড়ি ফিরছেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় তিনি সন্তুষ্ট। পরিবার পরিজনের সাথে হাসি মুখে বাড়ী ফিরছেন তিনি।

তবে অভিযোগও আছে বিস্তর। ওয়ার্ডে বেডের চাপ, টয়লেটের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এ ছাড়াও এক শ্রেণীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল ও মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে রয়েছে।
এছাড়াও লোকেশনের সমস্যা আছে। হাসপাতালের কাছেই নতুন বাস টার্মিনাল। ফলে অ্যাম্বুলেন্স আটকায়, রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি হয় যানজটের কারণে।

টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি অকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “রাবনায় নতুন টার্মিনাল হলে এই মেডিকেল হাব আরও প্রাণ ফিরে পাবে।”

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন,সরকারের পরিকল্পনা বড়। ক্যান্সার ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ক্যাথল্যাব ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মেডিকেল কলেজে গবেষণা সেল চালু হলে নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও কাজ হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালনা পরিষদের গত ১১ জুন সভাপতি নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব নিয়েই তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টাঙ্গাইলকে আমরা স্বাস্থ্যসেবার মডেল জেলা হিসেবে গড়তে চাই। ৭৫০ সজ্জার এই হাব হবে তারই শুরু।”

টাঙ্গাইলের এই মেডিকেল হাব এখন আর শুধু একটি জেলার হাসপাতাল নয়। এটি উত্তরবঙ্গের ৫-৬টি জেলার মানুষের ভবিষ্যতে ভরসার স্থল হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা অভিজ্ঞ জনের । চ্যালেঞ্জ আছে, তবে সম্ভাবনা তার চেয়ে বড়।
পর্যাপ্ত বরাদ্দ, জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা নগরী। আর তখন ঢাকামুখী রোগীর স্রোত কমে, টাঙ্গাইলমুখী হবে স্বাস্থ্যসেবার নতুন স্রোত। এমন প্রত্যাশা টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষের।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page